যে কারণ গুলির জন্য আমাদের মঙ্গল গ্রহে যাওয়া উচিত নয়

আমাদের মঙ্গল গ্রহে যাওয়া উচিত নয় এই কারণ গুলির জন্য

0

- Advertisements -

পৃথিবী ছাড়া যখনই অন্য কোন গ্রহতে জীবনের কথা বলা হয়, তখন মঙ্গল গ্রহের নাম সব থেকে প্রথমে নেয়া হয়। মঙ্গল গ্রহ (Mars) যেটি আমাদের পৃথিবীর বাইরে সব থেকে পরিচিত স্থান গুলোর মধ্যে একটি। যেখানে পাহাড় আছে। রয়েছে পর্বত। এমনকি সেখানে জলের অস্তিত্ব ও পাওয়া গেছে। যদি আপনি ভেবে থাকেন যে, মঙ্গল গ্রহ মানব জাতির জন্য দ্বিতীয় ঘর হতে পারে। তাহলে হতে পারে যে, আপনার ধারণা টি ভুল।

মঙ্গল গ্রহ একটি উর্বর গ্রহ। এটি বসবাসের জন্য কঠিন। এটি একটি প্রাণহীন ভূমি। পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গল গ্রহ একটি ভয়ানক ও বিষাক্ত মরুভূমির মত। এই গ্রহটির গড় তাপমাত্রা পরিমাপ করে পাওয়া যায়। এর গড় তাপমত্রা হল -৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে আমাদের পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হল ১৪-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই গ্রহটির অধিকাংশ ভাগ জীবনের বিরুদ্ধে। এই গ্রহটির বায়ু মন্ডল, মাটি, গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক ফিল্ড ইত্যাদি মিলিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এই গ্রহটির প্রকৃতির প্রতিটি পদেই জীবনের বিরুদ্ধে কঠিন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এই সব সমস্যা থাকা শর্তেও মানুষ কি মঙ্গল গ্রহে থাকতে পারবে?

আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের এমন ৭ টি কারণ বলব, যেটি জানার পর আপনিও হয়তো বলবেন যে, আমাদের এখন মঙ্গল গ্রহে যাওয়া উচিত নয়।

১। মঙ্গল গ্রহের কম মধ্যাকর্ষণ শক্তি

মঙ্গল গ্রহ আমাদের পৃথিবীর তুলনায় আকারে অনেক ছোট হওয়ায় এই গ্রহটির গ্র্যাভিটি পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। মঙ্গল গ্রহে থাকা মানুষ পৃথিবীর তুলনায় ৬২% কম গ্র্যাভিটি অনুভব করবে। মঙ্গল গ্রহের কম গ্র্যাভিটি আমাদের শরীরের মাংশ পেশি এবং হাড়ের অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে। অনেক অ্যাস্ট্রোনমার যারা স্পেস স্টেশনে ৬ মাস বা তার অধিক সময় কাটিয়েছে, দেখা গিয়েছে তাদের দৃষ্টি শক্তি কম হয়ে গিয়েছে। এবং সেটা পৃথিবীতে আসার পর ও ঠিক হয়নি। জন ফিলি ফলো সেই সব মহাকাশচারীর মধ্যে একজন। যার দৃষ্টি কেবল মাত্র ৬ মাসের মহাকাশ যাত্রার ফলে অনেকটাই খারাপ হয়ে গেছে। মহাকাশের মাইক্রো গ্র্যাভিটি আমাদের শরীরের হার এবং মাংস পেশির উপর অনেক খারাপ প্রভাব ফেলে। এবং এটি কেবল মাত্র নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা সম্ভব। কিন্তু নাসার কাছে পূর্ণ রূপে এর কোন স্থায়ী সমাধান নেই।

এবার আপনি মঙ্গল গ্রহে ৬ মাসের যাত্রার কথা ভাবুন। যদি আমরা মঙ্গল গ্রহের সার্ফেস পর্যন্ত একবার পৌছেও যাই, তাহলে কি আমরা মঙ্গল গ্রহে লম্বা সময় পর্যন্ত বেচে থাকতে পারবো? মঙ্গল গ্রহের গ্র্যাভিটি নাতো পৃথিবীর মত বেশি হবে, আর না ই চাদের মত হাল্কা হবে। তাহলে কি মঙ্গল গ্রহ আমাদের দৃষ্টি শক্তি, হাড় এবং মাংশ পেশি খারাপ হতেই থাকবে? এই বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

২। মঙ্গল গ্রহের বিষাক্ত মাটি

মঙ্গল গ্রহের মাটিতে জীবন যাপন করা আমাদের জন্য খুবই ভয়ানক হতে পারে। কারণ হল মঙ্গল গ্রহের মাটি খুবই বিষাক্ত। আপনারা হয়তো অনেকেই ‘দা মার্শিয়ান সিনেমা’ (The Martian Movie) টি দেখে থাকবেন। যেখানে অ্যাস্ট্রোনাট মার্ক বটনি (Mark Watney) এই গ্রহের মাটিতে আলু চাষ করেছিল। কিন্তু আমাদের এমনটি করা উচিত হবে না। কারণ এই গ্রহের মাটিতে পারক্লোরেট নামক রাসায়নিক পদার্থ অধিক মাত্রায় উপস্থিত রয়েছে।  এই মলিকিউলটিতে একটি ক্লোরিনের এটম এবং চারটি অক্সিজেনের এটম থাকে। কিছু অক্সিজেনের এটমকে আলাদা করে একত্রিত করা যেতে পারে। এবং মহাকাশ যাত্রীদের বসবাস স্থানের ভিতরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য অক্সিজেনের যোগান দেয়া যেতে পারে। সেখানে এর অপর দিকে পারক্লোরেট মানুষের শরীরের জন্য খুবই বিষাক্ত হয়।

এটির উপর রিসার্চ করে জানা গিয়েছে যে,  এটি শরীরের মেটাবলিজম থেকে শুরু করে নানা রকম শারীরিক রোগের সৃষ্টি করতে পারে। এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থটিকে আমরা আমাদের খাবার জল, খাদ্য এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে কখনোই প্রবেশ করতে দিতে পারি না।

৩। মঙ্গল গ্রহের অ্যাটোমোস্ফিয়ারিক প্রেসার

মঙ্গল গ্রহে আমাদের স্পেস স্যুট যদি একবার ফুটো হয়ে যায়, তাহলে কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই আমাদের মৃত্যু ঘটবে। কারণ এই গ্রহের বাতায়নে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারব না। এই গ্রহের বায়ু মন্ডলে কেবল মাত্র ০.১৪% অক্সিজেন রয়েছে। এবং কার্বন-ডাই অক্সাইড আছে ৯৬%। যেখানে পৃথিবীর বায়ু মণ্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা হল ২১%। মঙ্গল গ্রহের বায়ু মণ্ডলের চাপ পৃথিবীর বায়ু মন্ডলের চাপের তুলনায় অনেক কম। মঙ্গল গ্রহে আমাদের ঘর একটি বড় তাবুর মত হবে। যেটি মঙ্গল গ্রহের প্রেসারের কারনে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটি সেখানে আমাদের ঘর এবং স্পেস স্যুটকে ডিপ্রেসাইস্ট করে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। এবং এটাই মঙ্গল গ্রহের একটি কমন সমস্যা  হয়ে দাঁড়াবে।

এছাড়াও মঙ্গল গ্রহ ধুলো এবং বিষাক্ত মাটি দ্বারা আবর্তিত। যা এই গ্রহের সব যায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। এটি আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র পাতিকে দ্রুত নষ্ট করে দিতে পারে। এবং যদি কোন ভাবে এটাকে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরের ভিতরে নিয়ে নেই, তাহলে মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তো এটি ভাবা, যে আমরা সম্ভাবিত রুপে মঙ্গল গ্রহের বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারব, এই বিষয় টি একটি ধারনা মাত্র। যেটিকে টেরাফর্মিং এর মাধ্যমে সম্ভব করা যাবে। এবং বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হয়তো আমরা মঙ্গল গ্রহের বায়ু মন্ডলকে বদলে, এটিকে পৃথিবীর মত করে দিতে পারব। আমরা মঙ্গল গ্রহে গ্লোবাল ওয়ার্মিং শুরু করে গ্রহটির তাপ মাত্রা বাড়াতে পারি। এবং অধিক গ্রিন-হাউস গ্যাসের আদান প্রদান করতে পারি। এবং সেই সাথে সেই সব গাছ পালা রোপণ করতে পারি যেগুলো এই গ্রহের বায়ু মন্ডলের জন্য উপযোগী ও বেড়ে উঠতে পারবে। এবং এই সব গাছ পালা অক্সিজেনের যোগান দিতে পারবে। যদিও এটি এখনো অনেক অনেক দূরের পরিকল্পনা। যেটি ভবিষ্যতে হয়তো কোন সময় সম্ভব হতে পারে।

৪। ক্রাস ল্যান্ডিং অন মার্স (Crash Landing on Mars)

আরও দেখুন
1 of 3

- Advertisements -

মঙ্গল গ্রহের ভূমিতে নামার সময় আমাদের বিশাল আকারের মহাকাশ যান দূর্ঘটনার কবলে পরে ক্ষতি গ্রস্থ হতে পারে। মঙ্গল গ্রহের বায়ু মন্ডল খুবই পাতলা। এর অর্থ্য হল মঙ্গল গ্রহে ল্যান্ড করার সময় বায়ু মন্ডলের ঘর্ষণ খুবই কম হবে। পৃথিবীর বায়ু মন্ডল ঘন হবার কারণে এটি স্বাভাবিক রুপে পৃথিবীতে মহাকাশ যান ল্যান্ড করার সময় ধীর গতিতে নিয়ে আসে। কিন্তু মঙ্গল গ্রহের বায়ু মন্ডল খুবই পাতলা হবার কারণে আমাদের পৃথিবীর মত হবে না। এর মানে হল, মঙ্গল গ্রহে সহজ ভাবে ল্যান্ড করার জন্য একটি বিশেষ রকেট সিস্টেমের প্রয়োজন পরবে। যেটি কিউরেসিটি রোমারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছিল। কেবল একটি এক টনের কিউরেসিটি রোবারকে মঙ্গল গ্রহে নামার জন্য নাসাকে অনেক কসরত করতে হয়েছিল।

তাহলে একবার ভাবুন যে, এই গ্রহটির ভূমিতে ৫ জন, ১০ জন বা ১০০ জন মানুষের একটি টিমকে ল্যান্ড করানো কতটা কঠিন হবে। আমাদের এই গ্রহটিতে পা রাখার জন্য, একটি অতি অত্যাধুনিক ও ভালো মানের টেস্ট করা সিস্টেমের প্রয়োজন পরবে। যাতে অ্যাস্ট্রোনাটদের এই গ্রহটিতে সহজেই ল্যান্ড করানো যায়।

৫। রকেট লঞ্চ করতে ব্যার্থ (Rocket Launch Failure)

আমাদের রকেট পৃথিবীর বায়ু মন্ডল থেকে বাইরে বের হওয়ার পুর্বেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যদিও নাসার অ্যাস্ট্রোনাটদের মহাকাশে পাঠানোর খুবই ভালো ট্রাক রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে, রকেট লঞ্চ এ অনেক দূর্ঘটনাও হয়েছে। নাসার স্পেস স্যাটেল প্রোগ্রাম ১৯৮১ থেকে শুরু করে ২০১১ পর্যন্ত ৮৩৩ টি মানুষকে মহাকাশে পাঠিয়েছে। যার মধ্যে ২ টি ভয়ানক দূর্ঘটনায় ১৪ টি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০২ এ তৈরি হওয়া ইলন মাস্কের স্পেস কম্পানির রকেট লঞ্চ করা, এবং তাকে ল্যান্ড করানোর চেষ্টা করার এক বিচিত্র ইতিহাস রয়েছে। তাই এত বড় একটি মহাকাশ যান, মঙ্গল গ্রহে যাত্রা করানোর জন্য রকেট লঞ্চ ব্যার্থ হবারও একটি ভয়ানক সম্ভাবনা থেকেই যায়।

৬। সান রেডিয়েশন (Sun Radiation)

যদি আমরা সফলতা পূর্বক পৃথিবী থেকে এর বাইরে বেরিয়েও যাই, তবুও মঙ্গল গ্রহ পর্যন্ত যাত্রায় এখন ও অনেক বিপদ আছে। মহাকাশে এবং মঙ্গল গ্রহে থাকা যে কোন ব্যাক্তির জন্য সব চেয়ে বড় ভয় হল রেডিয়েশন। খালি দেখতে পাওয়া মহাকাশ বাস্তবে খালি নয়। এখানে সূর্য থেকে বের হওয়া রেডিয়েশন আছ। যেটি সব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে গামা রশ্মি , এক্স রশ্মি এবং আল্ট্রা ভায়োলেট লাইটের মত রেডিয়েশন রয়েছে। এবং এই সকল জিনিস আমাদের শরীরের সেলকে ড্যামেজ করে দেয়। আমাদের পৃথিবীতে একটি ঘন বায়ুমণ্ডল রয়েছে। একটা ওজন স্তর রয়েছে। এবং পৃথিবীর কেন্দ্র একটি সক্রিয় আয়রন কোর রয়েছে। এই আয়রন কোর থেকে একটি শক্তিশালী চুম্বকীয় শক্তি বা ম্যাগনেটিক ফিল্ড উৎপণ্য হয়। যেটি আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকারক রেডিয়েশন এবং অনন্ত মহাকাশের ভয়ানক গতিবিধি থেকেও রক্ষা করে আসছে।

সাল ২০০৪- এ প্রায় ৫ হাজার লাইট্‌স ইয়ার দূরে, একটি বিশাল আকারের ম্যাগনেটিক বিস্ফোরণ হয়েছিল। যার প্রভাব আমাদের পৃথিবীর উপরেও পরেছিল। কিন্তু সুরক্ষিত ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণে, আমরা এই রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষিত ছিলাম। এই বিস্ফোরণের ১ সেকেন্ডের ভাগের ১০ ভাগের ১ ভাগেই এত এনার্জি উৎপন্ন হয়েছিল যে, যতটা এনার্জি আমাদের সূর্য ১০০ হাজার বছরে উৎপন্ন করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত মঙ্গল গ্রহে কোন ধরনের ম্যাগনেটিক ফিল্ড নেই। তাই এখানে মহাকাশ থেকে আসা ভয়ানক বিকিরণ এবং সৌর বিকিরণ এর জন্য একটি ওপেন টার্গেট এর মত।

নাসার কিউরিসিটি রোভার থেকে পাওয়া মেজারমেন্ট অনুসারে মঙ্গল গ্রহের সার্ফেসে পৃথিবীর ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এর তুলনায় অতি অধিক পরিমাণে রেডিয়েশন রয়েছে। যেখানে অ্যাডভান্স সিল্ডিং টেকনোলজি এবং পৃথিবীর সুরক্ষিত ম্যাগনেটিক ফিল্ড থাকা সত্ত্বেও রেডিয়েশন এখন পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন এর চালকদের জন্য একটি বড় ভয়ের কারণ। মঙ্গল গ্রহেও অ্যাস্ট্রোনাটরা একের পর এক রেডিয়েশনের শিকার হতে থাকবে। যার ফলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক দ্রুত বেড়ে যাবে। এজন্যই রেডিয়েশন এর উপর কন্ট্রোল পাওয়ার টেকনিক যতদিন পর্যন্ত না অনেক উন্নত ও অ্যাডভান্স হবে ততদিন পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহে থাকা কেবলমাত্র একটি ভয়ানক দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে থাকবে।

৭। একাকীত্ব (Lonelyness)

আমাদের মঙ্গল গ্রহে একাকীত্ব অনুভব হতে পারে। এবং আমরা আমাদের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে ভয়ানক ও রোমাঞ্চকর সফরের জন্য, একটি দলকে পরিপূর্ণ ভাবে তৈরি করা একটি আশ্চর্যজনক ও খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যারা মাসের পর মাস একে অপরের সাথে থাকবে। এই গ্রহটিতে কয়েক মাস বা কয়েক বছর একমাত্র মানুষ হওয়া বা কেবল শুধু একে অপরের সাথে সময় কাটানো সহজ ব্যাপার হবে না। যদি মহাকাশ যাত্রীদের মাঝে একে অপরের সাথে ভিন্নমত বা ঝগড়া হয়, তাহলে এটি সকলের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

বায়োস্ফিয়ার ২ (Biosphere 2)

সাল ১৯৯৪ সালে বায়োস্ফিয়ার ২ (Biosphere 2) নামক একটি প্রজেক্ট শুরু করা হয়েছিল। এই প্রজেক্টে ৭ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে ভিন্ন মতবাদ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়েছিল। যার কারণে এই মিশন টিকে কে সময়ের আগেই সমাপ্ত করতে হয়েছিল। এজন্যই মঙ্গল গ্রহের এই মিশন কমপ্লিট করার জন্য সঠিক লোক কারা হবে, সেটি অনেক বিবেচনা করে ঠিক করতে হবে।এইসব প্রতিকূলতাকে পার করে, যদি আমরা মনুষ্য জাতি কে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমাদের মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানব কলোনি তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। গ্রহটিকে টেরাফর্মিং করে আমাদের পৃথিবীর পরিবেশের মত বানানোর চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের পৃথিবীর পরিবেশের মত পরিবেশ মঙ্গল গ্রহে তৈরি করতে হবে। হতে পারে মঙ্গল গ্রহে যাওয়া প্রথম মানুষগুলো হয়তো কখনো ফিরে আসতে পারবে না। কিন্তু এই ভয় টি যুগ যুগ ধরে রিসার্চারদের থামিয়ে রাখতে পারে নি। আমাদের মানবজাতির মধ্যে সবসময় এই উৎসুক টা আছে, যেটি আমাদের সেইসব জায়গায় যাওয়ার জন্য প্রেরিত করে। যে জায়গাগুলোতে আমরা কখনো যায়নি ও দর্শন করিনি। এবং এই কৌতুহলটি আমাদের বেচেঁ থাকার জন্য, শেখার জন্য, এগিয়ে যাওয়ার জন্য এক ধরনের শক্তি, উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করে থাকে।

আপনারা কি মনে করেন মঙ্গল গ্রহে যাত্রা করার জন্য সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত? আমাদের কি মঙ্গল গ্রহে একান্তই যাওয়া উচিত? নাকি টেকনোলজি আরো অনেক উন্নত হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত? নাকি আমাদের পৃথিবীতে আমাদের কাছে যা রয়েছে, সেগুলোকেই ভালোভাবে সংরক্ষিত করা উচিত। এই বিষয়ে আপনাদের মতামত অবশ্যই জানাবেন।

- Advertisements -

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More