ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক শাসনকর্তা ভারত

২০৫০ সালে অর্থনৈতিক শাসনকর্তা ভারত

0

সময় পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবীর চাহিদা। চাহিদার সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে অনেক কিছু। অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ এই তিনটি কাল নিয়ে এই পৃথিবী। পৃথিবী অতীতে কেমন ছিল বর্তমানে কেমন হয়েছে আর ভবিষ্যতে কেমন হবে তার ধারণা অনেকটা পাওয়া যায়।

পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হবে তার ধারণা পাওয়া যায়। পৃথিবীর অতীত ও বর্তমান সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে। অর্থনীতি একটা দেশের  অন্যতম একটা মাধ্যম যার  ফলে জানা যায় কোন দেশ কতটা স্বচ্ছল। আজ আমরা এই অর্থনীতি নিয়েই আলোচনা করব। ভবিষ্যতে কোন দেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে বা শাসন করবে গোটা বিশ্ব।একটি দেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি ও শক্তিমত্তা পরিমাপে দুটি স্বীকৃত উপায় আছে।

এক

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার।

দুই

বাজার বিনিময় হারের ভিত্তিতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার। পিডব্লিউসির গবেষণায় পিপিপির ভিত্তিতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশের স্থান বহাল থাকবে চীনের। তবে পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে তিনে হটিয়ে এক ধাপ উঠে আসবে ভারত। সেই সময়, মানে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।

গবেষণায় মোট দেশজ উৎপাদন বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৩২টি দেশের অর্থনীতিকে আমলে নেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে ইতিমধ্যেই জিডিপি বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশ। এই ৩২টি দেশের অর্থনীতি বিশ্বে মোট জিডিপির ৮৫ শতাংশের জোগান দেয়।

২০৩০ সালে চীনের মোট অর্থনীতির ক্রয়ক্ষমতা সমতার (পিপিপি) মূল্য হবে ৩৮.০০৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ২৩.৪৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ভারতের পিপিপি হবে ১৯.৫১১ ট্রিলিয়ন ডলার। তখন ২৮তম বাংলাদেশের পিপিপি হবে ১.৩২৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

আগামী ১৩ বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি ছাপিয়ে যাবে জার্মানি, রাশিয়া আর জাপানের মতো দেশকে। তখন ভারতের ঠিক নিচেই থাকবে জাপান। পাঁচে ইন্দোনেশিয়া, ছয়ে রাশিয়া এবং তারপরই জার্মানি। অর্থাৎ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো ক্রমশ বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর কাছে তখন স্থানচ্যুতি ঘটবে জাপান, রাশিয়ার মতো দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রে থাকা দেশগুলোর।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশের তালিকায় ভারত জায়গা করে নেবে শীর্ষ তিনে! প্রতিবেশী দেশটির তুলনায় বাংলাদেশ তখনো বেশ পিছিয়ে থাকলেও সেটা হবে আশাব্যঞ্জক। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার হবে বিশ্বে ২৮তম। শীর্ষে থাকবে চীন, দুইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং তিনে ভারত।

 

উপরের সমীক্ষা দেখলেই বোঝা যায় ভারত-অর্থনীতিতে কতটা এগিয়ে যাবে। এখনও ভারতের এমন এমন জায়গা রয়েছে যেখানে অনাহারে ভুগছে মানুষ। কিন্তু ক্রমাগত পরিশ্রমের ফলে একদিন তারাই অর্থনীতিতে অন্যান্য দেশ কে ছাপিয়ে নিজের অবস্থান করে নেবে বিশ্বদরবারে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশ ভারত।

জনসংখ্যাকে তারা পরিণত করেছে জনশক্তিতে। যার ফলে ভবিষ্যতে তাদের এই জনশক্তি নিয়ে যাবে তাদের অর্থনীতিকে বহুদূরে। হয়ে যাবে তারা পৃথিবীর অর্থনীতিতে শাসন করা অন্যতম একটি দেশ।

 

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More