উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

0

- Advertisements -

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব মরণ ঘাতক জটিল সমস্যা। এই মরণ ঘাতক জটিল সমস্যা টি নিয়ে মানুষ আজ দিন দিন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রনে না থাকার কারনে শরীরেরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক টি অঙ্গে গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারনে হৃদযন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দুর্বল হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করতে না পেরে হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এমন কি উচ্চ রক্তচাপের কারনে কিডনি নষ্ট, স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণও হতে পারে। এ অবস্থায় রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় এবং কিছু গরোয়া টিপস রয়েছে। আপনি চাইলেই ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি এই ঘরোয়া উপায় গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী ২০১৭ – ২০১৮ পর্যন্ত এ দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের চার জনের মধ্যে একজন রক্তচাপে ভুগছেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, সারা বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। আর উচ্চ রক্তচাপের কারনে সারা বিশ্বে বছরে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে। তাহলে চলুন বন্ধুরা শুরু করা যাক আমাদের আলোচনা উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

উচ্চ রক্তচাপ

- Advertisements -

হাইপারটেনশন Hypertension বা উচ্চ রক্তচাপ যা একটি রোগ। যখন কোন ব্যক্তির রক্তের চাপ সব সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বে থাকে। হাইপারটেনশন কে প্রাথমিক (আবশ্যিক) হাইপারটেনশন অথবা গৌণ হাইপারটেনশনে শ্রেণীভুক্ত করা হয়। পৃথিবীতে প্রায় ৯০–৯৫% ভাগ ক্ষেত্রেই “প্রাথমিক হাইপারটেনশন” বলে চিহ্নিত করা হয়। বাকি ৫-১০% বিভিন্ন রোগের কারণে হয় থাকে।

রক্ত মানব দেহের জৈব ও অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত। যা সামান্য লবণাক্ত, আঠালো, ক্ষারধর্মী ও লাল বর্ণের ঘন তরল পদার্থ এটি হৃৎপিণ্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিক জালিকার মধ্য দিয়ে নিয়মিত প্রবাহিত হয়। রক্ত এক ধরনের তরল পদার্থ যোজক কলা। মানব দেহে রক্ত চলাচলের সময় ধমনির গায়ে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে। আর যখন রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকে তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে।

রক্তচাপ কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, একটি হলো সিস্টোলিক (Systolic) বা উচ্চমান এবং অন্যটি হলো ডায়াস্টোলিক (Diastolic) বা নিম্নমান। রক্ত এর উচ্চ চাপ কে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান ১২০ মিলিমিটারের নিচে। নিম্নচাপ কে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে যার আদর্শ মান ৮০ মিলিমিটারের নিচে। আপনার রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা তার কম থাকে তাহলে আপনার নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার। আর যদি আপনার রক্তচাপ ৯০/৬০ এর বেশি হয় বা ১২০/৮০ এর কম হয় তাহলে আপনার স্বাভাবিক যা আদর্শ রক্তচাপ। তবে আপনার রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ এর বেশি হয় তাহলে হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ।

উচ্চ রক্তচাপ এর কারনে দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হওয়া, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, লালচে প্রস্রাব, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাথাব্যথা হওয়া, শরীরের অংশ বিশেষের একাংশের দুর্বলতা কিংবা অবশ হওয়া এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের খিঁচুনি উঠা ইত্যাদি হতে পারে। তাই শরীরে এরকম কোন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে দেখেন যে, আপনার উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে কিনা।

উপরের উল্লেখিত তথ্য টি ছিল উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে। এখন আমরা আলোচনা করবো উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় কি সে সম্পর্কে। নিচে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

জীবন যাপনে পরিবর্তন ও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব। আর আপনি জানেন কি গরোয়া উপায় এ উচ্চ রক্তচাপ কমানোর পদ্ধতি রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারবেন। আসুন তাহলে জেনে নেই উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে : ডায়াবেটিসের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ হওয়া স্বাভাবিক। যার ডায়াবেটিস আছে তাকে তা নিয়ন্ত্রন করতে হবে। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কমানোর কোন উপায় নেই। কেননা, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়।

মানসিক ও শারীরিক চাপ : যে কোন সময় মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলে নিতে হবে। এর জন্য নিয়মিত বিশ্রাম, সময়মত ঘুম এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা : নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। এর মাধ্যমে আপনি আপনার শরীরের ভারসাম্য বুঝতে পারবেন। আর যদি উচ্চ রক্তচাপ হয় তাহলে আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করবেন।

এছাড়াও আপনি ঘরোয়া উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর পদ্ধতি অবলম্বন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন রাখতে পারবেন। নিচে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আরও দেখুন
1 of 10

- Advertisements -

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায়

লবণ কম খাওয়া

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় হচ্ছে কাঁচা লবণ খাওয়া পরিহার করতে হবে। আর রান্নাতেও যতটা সম্ভব লবণ কম খাওয়া অভ্যাস করতে হবে। কারন লবণে প্রচুর পরিমানে সোডিয়াম রয়েছে। যা দেহের রক্তে মিশে সোডিয়ামের ভারসার্ম নষ্ট করে ফেলে এবং রক্তের চাপ বাড়তে থাকে।

শরীরের ওজন কমানো

উচ্চ রক্তচাপ থেকে রেহাই পেতে হলে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখলে রক্তচাপ অনেকটা কমানো সম্ভব।

নিয়মিত ব্যায়াম করা

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসাবে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম অনেক টা রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। কারন ব্যায়াম করার সময় হৃদপিণ্ড শক্ত হয় এবং পাম্প করতে চাপ কম লাগে।

চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করা

চর্বি জাতীয় খাবার উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়। যতটা সম্ভব চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন। সম্পৃক্ত চর্বি যুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে মাখন, চর্বি যুক্ত গরুর মাংস ও খাসির মাংসের পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বি যুক্ত খাবার যেমন, সয়াবিন তেল, সূর্যমুখি তেল, জলপাইয়ের তেল, মাছ পর্যাপ্ত খাওয়া উচিত।

আর্শযুক্ত খাবার বেশি করে খান

আর্শযুক্ত খাবার পরিপাক নালি থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। যা রক্তের কোলেস্টেরলও কমায়। শিম, বার্লিতে প্রচুর আর্শ থাকে।

ধুমপান মদ্যপান পরিহার করুন

ধুমপান ও মদ্যপান উভয়ে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়। অ্যালকোহল এবং নিকোটিন সাময়িক ভাবে রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে। আর চাইলেই আপনি এটি পরিহার করে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে পারেন। যেহেত এই দুই টি উপাদানই স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর তাই এগুলো ত্যাগ করাই ভালো।

বন্ধুরা, উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো মেনে চললে হয়ত কিছুটা হলেও উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে নিয়মিত ভাবে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ মাপা হলে দেহের ভারসাম্য ভালো রাখা যেতে পারে।

আপনি আরো পড়তে পারেন, উচ্চ রক্তচাপ কি এবং রক্তচাপের লক্ষণ সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত। ধন্যবাদ

- Advertisements -

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More